স্পোর্টস ডেস্ক
ঢাকা: আগের দিনই জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছিল এবারের বিশ্বকাপের আরেক নবাগত দল কুরাসাও। সেই ম্যাচের পর অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, স্পেনের বিপক্ষে আরেক অভিষিক্ত দেশ কেপ ভার্দের কপালেও বুঝি এমনই কোনো বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে! তবে ফুটবল বিশ্বকে রীতিমতো চমকে দিয়ে চলতি আসরের অন্যতম বড় অঘটনটির জন্ম দিয়েছে এই আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্রটি। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট ও সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য সমতায় আটকে দিয়ে নিজেদের জাত চিনিয়েছে তারা।
২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্প্যানিশদের বিপক্ষে কেপ ভার্দের পারফরম্যান্স কতটা অসাধারণ ও সুশৃঙ্খল ছিল, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ তাদের ফাউলের পরিসংখ্যান। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, স্পেনের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে পুরো ম্যাচে তারা মাত্র একটি ফাউল করেছে! ক্রীড়াভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণকারী বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান অপ্টার মতে, ১৯৬৬ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত কোনো দলের এক ম্যাচে করা এটিই সবচেয়ে কম ফাউলের রেকর্ড। এর আগে এই বিশ্বরেকর্ডটি ছিল তুরস্কের দখলে, যারা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচে মাত্র চারটি ফাউল করেছিল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে সিডনি লোপেস ক্যাবরাল সেই একমাত্র ফাউলটি করে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে কম ফাউলের এই বিষয়টি বাহ্যিকভাবে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ মনে না হলেও, এটি আসলে ফুটবলারদের চরম একাগ্রতা ও শৃঙ্খলারই প্রমাণ দেয়। স্পেনের চেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে ৬৪ ধাপ পিছিয়ে থাকা দলটির পুরো ১১ জন খেলোয়াড় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একতাবদ্ধ থেকে প্রতিপক্ষকে রুখে দেওয়ার দিকেই পুরোপুরি মনোযোগী ছিলেন। রক্ষণভাগে ইস্পাতকঠিন দেয়াল তোলার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই স্পেনের রক্ষণেও কাঁপন ধরিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে, নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় স্পেনের সঙ্গে ড্র করে গোটা ফুটবল বিশ্বের নজর কেড়ে নিয়েছে অদম্য কেপ ভার্দে।










